বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল

 

বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল
বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল

 

বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল

আন্তর্জাতিকতার বিদ্যাভবন

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ দপ্তরে বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এসব তর্ক-বিতর্ক ও যুক্তি উপস্থাপনের অধিবেশনগুলোতে ‘চেয়ারপারসন’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পরিশেষে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এই কার্যক্রমের আলোকেই প্রবর্তিত হয়েছে বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল (United Nations Model)।

যেহেতু জাতিসংঘে কি ‘ফরম্যাল’ কি ‘ইনফরম্যাল’ প্রভৃতি কয়েকটি আদলে তর্ক-বিতর্ক হয়, সেহেতু বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল একাধিক পদ্ধতিতে হতে পারে । আমাদের প্রথাগত বিতর্কের মৌলিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একটা স্বাভাবিক জাতিসংঘ মডেলের বিতর্কের যে নিয়মগুলো অনুসরণ করা যায়, তা নিম্নরূপ

 

বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল
বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল

 

নিয়মাবলি

১. বিতর্ক পরিচালনা করবেন মহাসচিব বা চেয়ারপারসন। সনাতনী বিতর্কের মঞ্চবিন্যাস অনুসরণ করা যায়। তবে প্রত্যেক পক্ষে তিনজনের পরিবর্তে দুজন করে বসালে বক্তারা স্বচ্ছন্দে কথা বলার পরিসর পাবেন।

২. ধরা যাক জাতিসংঘ অধিবেশনের আজকের কর্মকথন বা অ্যাজেন্ডা এরূপ ‘জাতিসংঘ মনে করে যে মানব অস্তিত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান হুমকির কারণে আগামী দশ বছরের মধ্যে বিশ্বের সকল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

৩. বিষয়টি যথেষ্ট আগেই সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে জানিয়ে দিতে হবে। এর পক্ষে বলার রাষ্ট্রগুলো হতে পারে জাপান ও জার্মানি; বিপক্ষে বাংলাদেশ ও চীন । যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান ও ভারত যেকোনো দিকে বা ভারসাম্যমূলক কথা বলতে পারে। কিন্তু তারা কোনো পক্ষ নয়। জাতিসংঘে অনেক দেশ পর্যবেক্ষক থাকে, অনেকে মাঝামাঝি বক্তব্য দেয়।

৪. মহাসচিব অনুষ্ঠান শুরু করে বিশ্ব শান্তির জন্য অর্ধ মিনিট নীরবতা পালন করবেন।

৫. এখানে দলপত্তি নেই। তবে বক্তারা তাঁর দেশকে নিবেদন করছেন। তাঁদের দেশের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী ধারাবাহিকতা পাবেন। এখানে প্রতিটা স্তরে রাষ্ট্রবিন্যাস বর্ণানুক্রমিক । যেমন

৬. প্রত্যেক বক্তার প্রস্তুতি তার দ্বারা নিবেদনকৃত দেশকেন্দ্রিক তো হবেই, উপরন্ত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্বন্ধেও তার সম্যক ধারণা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি, অর্থনীতি, বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস এবং চলমান যুদ্ধবিগ্রহ বা বিশ্বস্বীকৃত বিপর্যয় সম্বন্ধে বক্তাদের কথায় প্রতিফলিত হবে।

 

৭. মহাসচিবের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রপ্রতিনিধি কথা শুরু করবেন ।

৮. মহাসচিবের পাশের বিচারকেরা প্রচলিত নম্বরপত্রে বিচার করবেন। তবে এখানে বিষয়টি উপস্থাপনের পটভূমি এবং বক্তার রাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যার ওপর নম্বরপত্রে জোর দিতে হবে। যুক্তি, উপস্থাপনা, বিষয়ের গভীরতা, সৌজন্যবোধ ও বিষয়টিকে জরুরি করার ক্ষমতার ওপর নম্বরপত্রে গুরুত্ব আরোপিত হবে।

৯. প্রথম রাষ্ট্র অন্য সবার চেয়ে এক মিনিট বেশি সময় পাবে । সব শেষে প্রথম রাষ্ট্র দুই মিনিট যুক্তিখণ্ডনের সময় পাবে।

১০. পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রগুলো বক্তব্য রাখুক বা না রাখুক তাদের ভোট দিতে হবে। তাদের সংখ্যা জোড় বা বিজোড় হতে পারে। তাদের ভোট চূড়ান্ত রায় নির্ধারণ করবে না। কারণ এখানে সব সদস্যদেশকে রাখা হয়নি। বিচারকদের রায়ই চূড়ান্ত, যা নম্বর যোগ করে বেরিয়ে আসবে।

১১. জাতিসংঘে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলা যায়, এখানেও যাবে। তবে চলমান বিতর্কের সঙ্গে এখানে কথা বিষয়বস্তুর বাইরে চলে গেলেই শুধু এই পয়েন্ট’ তোলা যাবে। জাতিসংঘে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ নিয়ে চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। এখানে চেয়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। পয়েন্টের সংকেত হিসেবে বক্তাদের দু হাতের সাহায্যে ইংরেজি ‘T’ চিহ্ন দেখাতে হবে।

১২ কজন পর্যবেক্ষকের বক্তব্য গ্রহণ করা যাবে, এ সিদ্ধান্ত মহাসচিবের।

 

 

 

১৩. মহাসচিব ভোট গ্রহণের সময় ‘রোলকল করবেন বর্ণানুক্রমিকভাবে। রাষ্ট্রগুলো তিন রকম উত্তর দিতে পারবে হ্যাঁ, না ও বিরত থাকলাম। ভোট কিছুটা জনমতের প্রতিফলন ঘটায়। তবে নির্দিষ্ট বিচারকদের নম্বরপত্রে তা প্রভাব ফেলতে পারে বলে নম্বরপত্রে বিচারকদের সই নেওয়ার পর ভোট গ্রহণ বাঞ্ছনীয়।

১৪. কর্মকথনের ফলাফল ঘোষণা করার সময় শ্রেষ্ঠ বক্তব্য প্রদানকারী রাষ্ট্রের নামও ঘোষিত হবে।

১৫. বিতর্কের বিষয় নির্ধারণে চলমান আন্তর্জাতিক জরুরি প্রসঙ্গ প্রাধান্য পাওয়া উচিত ।

এভাবে বিতর্কের জাতিসংঘ মডেল শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সচেতনতা ও ভবিষ্যতে স্বদেশকে বিদেশে উপস্থাপন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

Leave a Comment