বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

 

 

বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

 

বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

বিতর্ক উদ্বুদ্ধকরণের শিল্প। উদ্বুদ্ধকরণের এই কর্মটি যে হাতিয়ারের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়, তার নাম যুক্তি। এ অর্থেই যুক্তিকে বলা হয় বিতর্কের প্রাণ। সুন্দর বাচনভঙ্গি, উচ্চারণ, শ্লেষ, রসবোধ প্রভৃতি বিতর্ককে সুন্দরতর ও আকর্ষণীয় করে তোলে, কিন্তু বিতর্কের প্রাণ রচনা করে না। এটি বিতর্কের বিকাশপথের প্রয়োজনীয় শর্ত। বিতর্কের প্রাণ রচনায় এই মৌলিক দায়িত্বটি অনিবার্যভাবেই নির্ভর করে বক্তার দক্ষতার ওপর। কোনো গানের শেষে আমরা বলি, “শিল্পীর গলা ভালো’। আবৃত্তির শেষে বলি, ‘আবৃত্তিকারের কণ্ঠ ভালো’। কিন্তু ভালো বিতর্কের শেষে বলি, “বক্তার যুক্তি ভালো’। অন্যান্য বিষয়ের যে প্রশংসা করি না, তা নয়; তবে যুক্তির প্রশংসাই বিতার্কিকের উদ্দেশে নিবেদিত প্রধান বন্দনা ।

 

বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

 

যুক্তির অবস্থান কোথায়

আমরা অনেক সময় ভাবি, যুক্তির অবস্থান বলতে একটা আলাদা জায়গা আছে। যেখানে যুক্তি হচ্ছে উদ্বুদ্ধকরণের হাতিয়ার, সেখানে এ হাতিয়ার ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। সনাতনী ভাবধারায় পাঁচ মিনিটের বিতর্ককে নিম্নোক্ত পন্থায় বিন্যস্ত করা উচিত

১. উপস্থাপনা (কবিতা, উদ্ধৃতি বা গল্পসহকারে)                                                         ১/২ মিনিট

২. বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা (আভিধানিক অর্থ বা মতাদর্শসহকারে)                    ১/২ মিনিট

৩. যুক্তি প্রয়োগ (তত্ত্ব ও তথ্যসহকারে)                                                                           ২ মিনিট

৪. যুক্তি খণ্ডন (তত্ত্ব ও তথ্যসহকারে)                                                                              ১ মিনিট

৫. অন্যান্য বিষয় ও উপসংহার (কবিতা, উদ্ধৃতি বা গল্পসহ )                                       ১ মিনিট

প্রচলিত সনাতনী বিতর্কগুলোর অধিকাংশই এ বিন্যাস মেনে চলে । অধিকাংশ বিতার্কিক এ সনাতনী ধারাবাহিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর কারণ তিনটি

১. রক্ষণশীলতা একটা স্বাভাবিক ধর্ম।

২. বিচারকেরাও এ ধারাবাহিকতায় অভ্যস্ত। তার্কিকেরা সে মানসিকতায় আঘাত করতে চান না।

৩. সংগীত, কবিতা, আবৃত্তি, নাটক প্রভৃতি শিল্পের মতো বিতর্ক নিয়ে এ দেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি।

আধুনিক বিতর্কে এ ধারাবাহিকতা যে মানতেই হবে, এমন কথা নেই। অনেকে যুক্তি খণ্ডন দিয়েই বক্তব্য শুরু করেন। তারপর তত্ত্ব ও তথ্যসহকারে যুক্তি প্রয়োগ করেন। দুই লাইনের কবিতা, কিংবা এক মুষ্টি উদ্ধৃতি, কিংবা এক চিমটি গল্প—এগুলো ব্যবহার করেন না। এর উপকারিতা

১. বক্তা পুরোপুরি মুখস্থ করে এসেছেন’—এমন ধারণা কেটে যায়।

২. বক্তাকে মনে হয়, বেশি আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকভাবে কবিতা, বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা, যুক্তিপ্রয়োগ- এভাবে বক্তব্য পেশ করলে সে বক্তার রক্ষণাত্মক ভূমিকা মুখ্য হয়ে ওঠে, যা দাপট প্রমাণ করে না।

৩. বিতর্কের জন্য আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—এ দুটো কৌশলই প্রয়োজন । তবে এ দুটো দর্শক-শ্রোতার মধ্যে প্রধানত দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

 

বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

 

রক্ষণাত্মক

১) পূর্বপ্রস্তুতি (Preparation)
২) সহানুভূতি (Sympathy)

আক্রমণাত্মক

১) চ্যালেঞ্জ (Challenge )
২) প্রত্যুৎপন্নমতি (Ready Wit)
৩) ক্ষমতা (Power )
৪) উদ্দীপনা (Thrill)

উভয় প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন থাকলেও স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রতিক্রিয়াগুলো অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এ জন্যই দর্শক-শ্রোতা, কি বিচারক সবাই যুক্তি খণ্ডনের ওপর গুরুত্ব দেন বেশি। অতএব, যুক্তি খণ্ডন দিয়েই শুরু করলে প্রথমেই গুরুত্বলাভ করা সম্ভব।

৪. পূর্ববর্তী বক্তার যুক্তিগুলো দর্শক-শ্রোতাদের মনে কমবেশি আসন নিয়ে থাকে। এ অবস্থায় পরবর্তী বক্তা যদি গতানুগতিকভাবে তার বক্তব্য শুরু করে মাঝামাঝি সময়ে যুক্তি প্রয়োগ করতে থাকেন, তখন দর্শক- শ্রোতাদের মনে ধারণা হবে তার নিজস্ব যুক্তি তো তিনি বলবেনই । কিন্তু প্রথমেই যদি বক্তা দ্রুত পূর্ববক্তার যুক্তিগুলো খণ্ডন করে ফেলেন, তাহলে এরপর তিনি তাঁর যুক্তিগুলোকে সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করার সময়, সুযোগ ও পরিবেশ পাবেন, বেশি নিরাপত্তাও পাবেন।

৫. দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে প্রথমে রক্ষণাত্মক পরে আক্রমণাত্মক’— এই কৌশল নেওয়া হয়। কিন্তু স্বল্পস্থায়ী নির্দিষ্ট সময়বদ্ধ যুদ্ধে প্রথমেই আক্রমণাত্মক ভূমিকা নেওয়া হয়। যার উদাহরণ বহুজাতিক বাহিনীর ‘ডেজার্ট স্টর্ম’। এ রণকৌশলে বহুজাতিক বাহিনী প্রথমেই শক্তিশালী ইরাকি সামরিক স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস করে দুর্বল করে দিয়েছিল এবং পরে এগিয়েছিল নিরাপত্তা নিয়ে। তেমনি কোনো তার্কিকও যদি প্রথমেই বিপক্ষের শক্তিশালী স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং পরে নিজস্ব যুক্তিতে অগ্রসর হন, তাহলে তা দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে বেশি মনস্তাত্ত্বিক কার্যকারিতা সৃষ্টি করবে।

অনেকে হয়তো বলবেন, বক্তব্যের প্রথমেই ‘আমি যুক্তি খণ্ডন করছি’ এমন একটা কাঠখোট্টা কথার চেয়ে একটা কবিতার লাইন ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত’ কিংবা একটা উদ্ধৃতি কিংবা আরব্য রজনীর একটা ছোটগল্প দর্শককে অনেক বেশি আনন্দ দেবে, রসময়তা ও আকর্ষণ সৃষ্টি করবে। কথাটা সত্য। আসলে যুক্তি খণ্ডনের সঙ্গে পঙক্তিমালা, উদ্ধৃতি বা গল্পের বিরোধ নেই। মূলকথাটা হচ্ছে, এগুলোর প্রয়োগ যদি যুক্তি খণ্ডনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হয় অথবা এগুলোর আশ্রয়ে যুক্তি খণ্ডন ঘটানো হয়, তাহলে তা অবশ্যই বেশি মনস্তাত্ত্বিক কার্যকারিতা প্রমাণ করবে । এতে বিতার্কিকের সাহিত্যবোধ ও যৌক্তিকতার সমন্বয়ক্ষমতা মূর্ত হয়ে উঠবে ।

অতএব, আমরা অন্তত এটুকু সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, অধিক মনস্তাত্ত্বিক কার্যকারিতার লক্ষ্যে যুক্তি খণ্ডন দিয়ে বিতর্ক শুরু হবে, যদিও তার প্রকাশ কবিতা, উদ্ধৃতি, গল্প বা সরাসরি ভাষায় হতে পারে; যা নির্ভর করবে তার্কিকের রুচির ওপর। এভাবে আধুনিক বিতর্কে যুক্তির অবস্থান সিদ্ধিতে।

 

বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

 

যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডনের লক্ষণীয় উপাদান

বিতর্কে সব বক্তাই কমবেশি যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন করবেন; কিন্তু সংখ্যায় বেশি যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন করেও অনেকে সফলকাম হন না। আবার কম যুক্তি দিয়েও অনেকে পঞ্চপাণ্ডবের মতো শতাধিক কৌরবকে পরাজিত করতে পারেন। তার কারণ হচ্ছে, সেই সার্থক যুক্তিদাতা জ্ঞানত অথবা মনের অজান্তে নিম্নবর্ণিত উপাদানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।

১. যুক্তির নিরাপত্তা (Safety)ঃ

কোনো যুক্তি প্রয়োগ করার আগে বুঝে নিতে হবে, সেটা কতটা নিরাপদ। অকাট্য যুক্তির নিরাপত্তা বেশি, অর্থাৎ তাকে স্থাপন করার সঙ্গে সঙ্গেই বিপক্ষ সহজ শক্তিতে চারদিক থেকে আক্রমণ করতে পারে না। পক্ষের বক্তা যখন বললেন ‘চৌর্যবৃত্তির জন্যই আমাদের দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাচ্ছে’ তখন এ যুক্তির নিরাপত্তা খুবই কম। বিপক্ষ বললেন, ‘কথাটা সম্পূর্ণ উল্টো, আসলে আমাদের দারিদ্র্যই চৌর্যবৃত্তি বাড়াচ্ছে’। কিন্তু প্রথম বক্তা যদি বলতেন ‘চৌর্যবৃত্তি আমাদের মানসিক বিকৃতি বাড়াচ্ছে, তাহলে যুক্তিটাতে অধিক নিরাপত্তা সৃষ্টি হয়। হয়তো এরও কেউ পাল্টা যুক্তি দেবেন। এ রকম পাল্টা যুক্তি সব ক্ষেত্রেই থাকবে, যেমন পাল্টা আক্রমণ সব যুদ্ধেই থাকে। কিন্তু নিজের অবস্থানে নিরাপদ থাকলে পাল্টা আক্রমণ কাবু করতে ব্যর্থ হয়।

২. যুক্তির সাবলীলতা (Robustness)ঃ

নিজের যুক্তিকে নিরাপদ করার পরবর্তী দায়িত্ব হচ্ছে যুক্তিকে শক্তিশালী, শাণিত ও সাবলীল করা। কুসুম প্রথমে ডিমের খোলসে নিজেকে নিরাপদ করে, তারপর আস্তে আস্তে কুসুম নিজেকে শক্তিশালী করতে থাকে।

ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সাহায্য করছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের লোভ।

খ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সাহায্য করছে, কারণ নব্য সাম্রাজ্যবাদী পন্থায় বিশ্বে আধিপত্য ও প্রভুত্ব প্রমাণ করা। উভয় যুক্তিই সঠিক, নিরাপদ। কিন্তু সাবলীলতা কোনটির বেশি তা তার্কিকেরা বিচার করুন।

৩. যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা ( Acceptance)ঃ

দুটো যুক্তি পাশাপাশি সত্য হওয়ার পরও একটি অধিক গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে সমর্থ হয় । অনেক সময় আবেগ ও সেন্টিমেন্টের সদ্ব্যবহার হৃদয়গ্রাহিতা বাড়ায়।

ক) ‘বিদেশি অন্ধ অনুকরণ আমাদের সামাজিক দারিদ্র্য প্রকট করে তুলেছে।’ কথাটা হৃদয়গ্রাহী, তবে সেন্টিমেন্ট প্রধান ভূমিকা রাখছে হৃদয়গ্রাহিতা সৃষ্টিতে। কারণ, বিদেশি অন্ধ অনুকরণ শব্দটির বিরুদ্ধে আমাদের একটা সেন্টিমেন্ট কাজ করে। একে অন্য পথেও হৃদয়গ্রাহী করা যায়। যেমন

খ) ‘আমাদের আর্থসামাজিক বৈষম্য সামাজিক দারিদ্যকে প্রকট করে তুলছে।’

এ ক্ষেত্রে যুক্তি গভীর অবস্থান থেকে উত্থিত, যার নাম আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট।

অতএব, যুক্তির হৃদয়গ্রাহিতা কয়েকভাবে সৃষ্টি করা সম্ভব হলেও বিতার্কিকের উচিত কার্যকারণের গভীরতর অবস্থান থেকে এবং সেন্টিমেন্টের বদলে বাস্তবতায় ভর করে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টির দিকে মনোযোগী হওয়া।

 

৪. যুক্তির ঐশ্বর্য (Richness)ঃ

তত্ত্ব ও তথ্য যুক্তির ঐশ্বর্য বা বৈভব বৃদ্ধি করে। কোনো তত্ত্বই আইন নয়, অর্থাৎ সর্বজনস্বীকৃত নয়। তারপরও অধিকাংশের গৃহীত তত্ত্বগুলো বিতর্কে যুক্তির সহায়ক বন্ধু (প্রভু নয়) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন কার্ল মার্ক্সকে অনেকেই ভয় করেন, ঘৃণা করেন এবং সমর্থন করেন না। কিন্তু তাঁর ‘শ্রেণিস্বার্থমূলক দ্বন্দ্ব’-এর তত্ত্ব অস্বীকার করতে পারেন না। মার্ক্স-এঙ্গেলসের বিভিন্ন সামাজিক তত্ত্ব, ডারউনের বিবর্তনবাদ, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, নিউটনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার তত্ত্ব বিতর্কে যখন যুক্তির সমর্থনে হাজির করা হয়, তখন সে যুক্তির ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পায়। উপযুক্ত উৎস উল্লেখ করে সঠিক তথ্য পেশ করলে যুক্তি গুণক প্রভাবের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

৫. যুক্তির উদাহরণ-সম্পৃক্ততা (Example Relatedness)ঃ

কথায় বলে, “বক্তৃতার চেয়ে দৃষ্টান্ত উত্তম তাত্ত্বিক কথাবার্তার চেয়ে একটি উদাহরণ অনেক বেশি শক্তিশালী। একটা স্বাভাবিক ঘটনা থেকেই তার প্রমাণ মেলে । কোনো বিতর্ক শেষ হলে আমরা সব কটি তত্ত্ব বা যুক্তিকে মনে রাখতে পারি না। কিন্তু ভালো উদাহরণগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলি, হাসাহাসি করি এবং সে উদাহরণের সিঁড়ি বেয়ে যুক্তিকে স্মৃতির পাতায় আবিষ্কার করি। প্রায় প্রতিটি যুক্তির পাশে যদি আমরা একটি করে উপযুক্ত উদাহরণ দাঁড় করাতে পারি, তাহলে তা ‘প্রতিটি সৈনিকের হাতে এক-একটি অস্ত্রের মতো মনে হবে।

যুক্তির আরোহণ বা অবরোহণ পদ্ধতি

যুক্তিশাস্ত্র থেকে আমরা এ পদ্ধতি দুটির পরিচয় পাই।

আরোহণ পদ্ধতি (Inductive)

মানে নিচ থেকে ওপর দিকে আরোহণ করে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। যেমন রবীন্দ্রনাথ মরেছেন, মরেছেন নজরুল। অতএব সকল কবিই মৃত্যুবরণ করবেন এবং এভাবে সব মানুষ মরণশীল।

অবরোহণ পদ্ধতি (Deductive)

মানে যা উঁচু থেকে নিচের দিকে নেমে একটা সিদ্ধান্ত দেয় । যেমন সব মানুষ মরণশীল, অতএব আমাদের পাড়ার বিপ্লবী দাদুও মারা যাবেন।

বিতর্কে যুক্তির ক্ষেত্রে দর্শক-শ্রোতারা আরোহণ পদ্ধতিতে বেশি প্রভাবিত হন। অবরোহণ পদ্ধতি অনেক সময়ই তাঁদের কাছে ওপর থেকে চাপানো সিদ্ধান্ত মনে হয়। এ ক্ষেত্রে কর্মশালায় তার্কিকেরা তা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

 

বিতর্কের যুক্তিপ্রয়োগ ও খণ্ডন

 

যুক্তির শ্লেষ ও রসবোধ

যুক্তিতে শ্লেষ ও রসবোধ আসতে পারে, কারণ এগুলো সাহিত্যের অঙ্গ। তবে তা কখনোই যুক্তিকে ঢেকে দেবে না। দর্শক-শ্রোতা যদি মনে করেন যে বিপক্ষকে শুধু ব্যঙ্গ করার জন্য শ্লেষ ও রসিকতা ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে যুক্তি তার সার্থকতা হারাবে। বিচারকেরা এতে বিরক্ত হয়ে নম্বর কমাতে পারেন। কারণ, বিতর্ক হচ্ছে একটি ভদ্র ও পরিশীলিত বাগযুদ্ধ।

সমাপনী

‘যুক্তির প্রয়োগ ও খণ্ডন’ একটা ব্যাপক বিষয় এবং এ বিষয়ের তাত্ত্বিক দিকের চেয়ে বাস্তব ও প্রায়োগিক দিকটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বৃহত্তর। সেমিনার, সম্মুখ প্রশ্নোত্তর ও বাদানুবাদের মাধ্যমে এ বিষয়কে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। যুক্তি শুধু বিতর্কেরই প্রাণ নয়, আমাদের সামাজিক জীবনের প্রজ্ঞা, কার্যকারণ সম্পর্ক এবং হেতুবোধ প্রতিষ্ঠায় যুক্তির উপস্থিতি ধ্রুবতারার মতোই অনড়, উজ্জ্বল। যুগের পরিবর্তনে বিতর্কের আঙ্গিকে শত পরিবর্তন ঘটলেও যুক্তি বিতর্কের জগতে চিরদিনই অনিবার্য হয়ে থাকবে।

Leave a Comment