বিতর্ক উপাদানের মিশ্রণ

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ বিতর্ক উপাদানের মিশ্রণ

 

 

বিতর্ক উপাদানের মিশ্রণ

একটি সাফল্যপূর্ণ বিতর্কের জন্য প্রধানত তিনটি উপাদান আবশ্যক । ভেনচিত্রের (Venn Diagram) মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যায়। একজন দক্ষ তার্কিক এই ভেনচিত্রের দিকে না তাকিয়েই তার মনের অজান্তে চিত্রটির বিভিন্ন উপাদানের যোগ্য মিশ্রণ ঘটান।

 

বিতর্ক উপাদানের মিশ্রণ
বিতর্ক উপাদানের মিশ্রণ

 

ক) উপস্থাপন ও যোগাযোগ :

এটিই বিতর্কের প্রধান কার্যকর শক্তি । একজন বক্তার জন্য এটি প্রধান সাফল্য শর্ত।

খ) যুক্তি ও ন্যায়বোধ :

যুক্তি বিতর্কের প্রাণ। এই যুক্তির মাধ্যমেই তার্কিক ন্যায়বোধ জাগ্রত করে উদ্বুদ্ধকরণ সম্পন্ন করেন।

গ) সাহিত্য ও রসবোধ :

নম্বরপত্রে হয়তো এটির জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই। কিন্তু সাহিত্য রসবোধ, ইতিহাসজ্ঞান প্রভৃতি উপাদান তর্ককে সমৃদ্ধ করে, গভীরতা দেয় এবং উদ্বুদ্ধকরণ স্থায়ী হয়। এই প্রধান তিন উপাদানের নানা সমন্বয় বিতর্কমানের চারটি শ্রেণির সৃষ্টি করে। ভেনচিত্রে তা দেখা যায়ঃ

 

বিতার্কিকের লক্ষ্য ও বিকাশপথ
বিতার্কিকের লক্ষ্য ও বিকাশপথ

 

১. শ্রেণি ১: ক+খ+গ :

তিন উপাদানের মিশ্রণ উত্তম বিতর্কের জন্ম দেয়।

যুক্তিতর্ক ও ন্যায়বোধের সঙ্গে সাহিত্য ও রসবোধের মিশ্রণ যখন সুন্দর উপস্থাপন ও সার্থক যোগাযোগের মাধ্যমে নিবেদিত হয়, তখন তা বক্তাকে দেয় আত্মবিশ্বাস এবং তার তর্কক্ষমতা শ্রেষ্ঠত্ব পায়।

২. শ্রেণি ২ : ক+খ :

যুক্তি ভালোভাবে উপস্থাপিত হলে তা দ্বিতীয় মানের বিতর্ক উপহার দেয়। তবে এতে সাহিত্য, ইতিহাস ও রসবোধের অভাব অনুভূত হয়।

 

৩. শ্রেণি ৩ : ক+গ :

সাহিত্য ও রসবোধ ভালোভাবে উপস্থাপন করেও বক্তৃতা সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু যথার্থ যুক্তির অভাবে তা তৃতীয় মানে থাকে ।

৪. শ্রেণি ৪ : খ+গ:

যুক্তি ও সাহিত্য সংযুক্ত করলে তা একটা ভালো লিখিত ভাষণ উপহার দিতে পারে। কিন্তু দক্ষ উপস্থাপনার অভাবে তা চতুর্থ মানে চলে যায়। একজন তার্কিক তখনই দক্ষ যখন তিনি এগুলোর পর্যায়ক্রমিক গুরুত্ব (ক>খ>গ) অনুসারে যথাযথ মিশ্রণ সম্পন্ন করতে পারেন। তখনই বেরিয়ে আসে উন্নত বিতর্কমান।

Leave a Comment