বিতর্কিকা মডেল

আজকে আমরা আলোচনা করবো বিতর্কিকা মডেল সম্পর্কে

 

বিতর্কিকা মডেল
বিতর্কিকা মডেল

 

বিতর্কিকা মডেল

বাগযুদ্ধের ক্ষুদ্রাসর

বিতর্কিকা মানে বিতর্কের ক্ষুদ্র আয়োজনের অনুষ্ঠান বা মিনি ডিবেট। প্রচলিত বিতর্কগুলোতে মূল সময়ই লাগে চল্লিশ মিনিট। সবকিছু শেষ হতে পৌনে থেকে এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ব্যস্ত পৃথিবীতে আমাদের সময় স্বল্পতা বাড়ছে। আজকের গতিশীল পৃথিবীতে সিদ্ধান্ত পূর্ব তর্কের বিষয়গুলো খুব ছোট গণ্ডির হয়। প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে কোনো বিষয়ে দ্বিমত হলে আমরা দ্রুতই তা সমাধান করি। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই বিতর্কিকা মডেল ( Miniature Model) সাজানো যায়।

আজকাল বড় বড় খেলারও ক্ষুদ্র সংস্করণ তৈরি হচ্ছে যেগুলো জনপ্রিয়তায় কম যায় না। যথেষ্ট বেশি সময় নেয় বলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীনসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে ক্রিকেট সাদরে গৃহীত হয়নি। পক্ষান্তরে এর ক্ষুদ্র সংস্করণ হালে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বহু দেশেই। সে রকম প্রেক্ষিত ও মনোভাব থেকেই বিতর্কিকা মডেলের সূত্রপাত ।

 

বিতর্কিকা মডেল
বিতর্কিকা মডেল

 

বিতর্কিকার বৈশিষ্ট্য ও নিয়মাবলি

১. বিতর্কিকা সর্বোচ্চ বিশ মিনিটের মধ্যে শেষ করা যায়।

২. এখানে বিষয়গুলো খুবই সুনির্দিষ্ট। যেমন-

ক) এ বছর কৃষিতে ভর্তুকি কমিয়ে দেওয়া উচিত।

খ) ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলে দুই বছরের সুদ মওকুফ করে দেওয়া হোক ।

গ) প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে ওই পরীক্ষা বাতিল করা উচিত।

ঘ) ঈদের ছুটি হোক সাত দিনের।

ঙ) যানজটের ঢাকা শহরে বাসগুলোকে আইন করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত করতে হবে।

চ) ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে বিয়ের বয়স হোক সর্বনিম্ন বিশ।

ছ) উল্টো লেনে গাড়ি চালালেই লাইসেন্স এক মাসের জন্য বাতিল করতে হবে।

 

বিতর্কিকা মডেল
বিতর্কিকা মডেল

 

৩. বিষয়গুলো অনেকটা মন্ত্রিপরিষদ সভা বা কোম্পানির বোর্ডরুম সিদ্ধান্তের মতো শোনাবে, যাতে ঔচিত্যের প্রশ্ন ঘিরে প্রধান যুক্তিগুলো মোক্ষম সহায় হয়ে ওঠে।

৪. এ বিতর্ক হবে সনাতনী পন্থায় যাতে বক্তা সুস্থিরভাবে তার কথা শেষ করতে পারেন। বিভিন্ন আপত্তি বা ‘পয়েন্টে’ বোঝাই সংসদীয় তর্ক এখানে সময়স্বল্পতার কারণে মানানসই নয়।

৫. প্রত্যেক পক্ষে মাত্র দুজন করে বলবেন। প্রত্যেকে সাড়ে তিন মিনিট। শেষে বাড়তি যুক্তিখণ্ডনের সময় দেড় মিনিট করে। এতে সময় লাগছে (৩.৫+৩.৫+৩.৫+৩.৫+১.৫+১.৫)=১৭ মিনিট।

৬. যেহেতু বক্তার পর্যায়ক্রম ঠিক করা থাকবে, সেহেতু মাঝখানে সভাপতির ঘোষণা অপ্রয়োজনীয়। পক্ষের বক্তার সময় শেষের ঘণ্টা বাজার পর পরই বিপক্ষের বক্তা বলা শুরু করবেন। প্রত্যেকে তাঁর স্থান থেকে বসেই কথা বলবেন।

৭. নম্বরপত্র খুব সহজ থাকবে, যাতে তর্কের আসর শেষ হবার সাথে সাথেই সভাপতি ফল দিতে পারেন। শুধু উপস্থাপনায় ১০, যুক্তি ২০ ও সামগ্রিক ১০—মোট ৪০ নম্বরের ভিক্তিতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে। শেষে সভাপতি দুএক কথা বলবেন। তবে অনুষ্ঠানটি বিশ-একুশ মিনিটের মধ্যে শেষ করা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় এ মডেলের সংক্ষিপ্ততা অথবা মনোযোগ গাঢ়তার আকর্ষণ ও বৈশিষ্ট্য হারাবে।

৮. একটা বড় কবিতাকে দশ টুকরো করলেই যেমন দশটা ছড়া পাওয়া যাবে না, তেমনি বড় বিতর্কের আসর সময়ের চাপে ছোট করে দিলেই এ মডেল পাওয়া যাবে না। প্রতিটা ছড়া কিন্তু ছোট হলেও এক একটা বক্তব্যের পূর্ণধারক বা ‘সেলফ-কনটেইনড’। বিতর্কিকাও ঠিক সে রকম। বিষয়টি সুনির্দিষ্ট এবং যুক্তিবোধে ঔচিত্যনির্ভর।

 

সমাপনী

বিষয়বস্তু নির্ধারণের ওপর এর সাফল্য বহুলাংশে নির্ভরশীল। বড় টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়গুলোর বাছাই অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত করতে হলে বিতর্কিকা উত্তম পন্থা। বেশ কটি একই সঙ্গে চলমান বা কনকারেন্ট সেশন না করে এক মিলনায়তনে বিতর্কিকা দিয়ে দ্রুত সেশনগুলো সম্পন্ন করা যায়। এতে শ্রোতারাও উপকৃত হন। কারণ তাদেরকে বারবার বাছতে হয় না কোনটা ছেড়ে কোনটায় যাবেন। সংক্ষিপ্ত সময়ে কথা বলার অভ্যাস ও দক্ষতা গড়তেও বিতর্কিকা অনবদ্য।

 

 

Leave a Comment